হাওজা নিউজ এজেন্সি: মরহুম আল্লামা মিসবাহ ইয়াজদি তাঁর একটি গ্রন্থে “বিপ্লব আমাদের জন্য কী করেছে?” শীর্ষক বিষয়ে আলোকপাত করেছেন। ইরানের বিপ্লব বার্ষিকী দশে ফজর ও ২২ বাহমান উপলক্ষে এই লেখা সম্মানিত পাঠকদের জন্য উপস্থাপন করা হলো:
যে তরুণরা শাহের শাসনামলের জুলুম দেখেনি, তাদের উচিত বিপ্লবের মূল্য অনুধাবন করা
এই বিপ্লবের অন্যতম বৃহৎ বরকত ছিল—দেশের অধিকাংশ মানুষের ওপর থেকে দমনমূলক শাসনের অবসান। সাবেক শাসনব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত কিছু সুবিধাভোগী ব্যক্তি ছাড়া সমাজের প্রায় সব স্তরের মানুষই নিপীড়ন, ভয় ও চাপের মধ্যে জীবন যাপন করছিল এবং অনেকেই সরাসরি জালিম আচরণের শিকার হয়েছিল।
এই দিক থেকে ইসলামী বিপ্লব কেবল মুসলমানদের জন্য নয়, বরং অমুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্যও কল্যাণ বয়ে এনেছে। এই বিপ্লবের প্রকৃত মহত্ত্ব তখনই সম্পূর্ণভাবে অনুধাবন করা সম্ভব হবে, যখন সেই শাসনামলে জনগণের ওপর আরোপিত জুলুম ও অবিচারের মাত্রা গভীরভাবে মূল্যায়ন করা হবে।
বিপ্লব-পরবর্তী প্রথম দিকের আন্তরিকতা ও ঐক্যকে পুনরুজ্জীবিত করতে হবে
ইরানের ইসলামী বিপ্লবের বিজয়ের পর জাতি যে সবচেয়ে বড় নিয়ামত অর্জন করেছিল, তা ছিল সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও স্তরের মানুষের মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক সহমর্মিতা।
বিপ্লবের শুরুর দিকে এই ঐক্য এমন এক ব্যতিক্রমধর্মী ও অনন্য পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল, যা মানব ইতিহাসে এক স্বপ্নময় অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
বিপ্লব-পূর্ব সময়ে, শীতের তীব্র ঠান্ডায় ও ধর্মঘট চলাকালে, এই দেশের তরুণরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করত— শুধু নিজেদের জন্য নয়, বরং সেই প্রতিবেশীদের জন্যও, যারা শারীরিকভাবে লাইনে দাঁড়াতে অক্ষম ছিল।
সে সময় এমনকি বিপ্লবের মহান নেতা ও শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্বও সাধারণ জনগণের জন্য নির্ধারিত রেশনব্যবস্থার বাইরে কোনো অতিরিক্ত সুবিধা গ্রহণ করতেন না।
আজকের শিয়াদের মর্যাদা—নাকি পঞ্চাশ বছর আগের দুর্বল ও অবহেলিত অবস্থান?
ইসলামী বিপ্লবের বিজয়ের ফলে শিয়া ও আহলে বাইত (আ.)–এর অনুসারীরা মুসলিম বিশ্বের মধ্যে এক নতুন আত্মমর্যাদা, সম্মান ও আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছে। এই মর্যাদাবোধই ইসলামী বিপ্লবের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ অর্জনগুলোর অন্যতম।
অতএব, এই সম্মান ও গৌরবকে আন্তরিকতা ও দৃঢ়তার সঙ্গে সংরক্ষণ করা এবং তার সুরক্ষায় সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো আমাদের সকলের দায়িত্ব।
সূত্র: ইসলামী বিপ্লব ও তার শিকড়সমূহ
আপনার কমেন্ট